নারীর ফিতরাত ও আল্লাহর বিধান

নারী আর পুরুষ দুটি ভিন্ন সত্ত্বা, তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ভ্রূণ অবস্থা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপেই নারী এক স্বতন্ত্র সত্ত্বা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নারীকে সৃষ্টি করেছেন তুলনামূলক কোমল করে। খুব কঠিন কোন পরিস্থিতি একজন নারীর জন্য সহনীয় নয়। একজন পুরুষ যতটা শারীরিক পরিশ্রম ও কষ্ট করতে পারে একজন নারী তা পারে না। এটাই চিরন্তন সত্যি। এটা নারীর কোন দুর্বলতা নয়, এটা তার বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তায়ালাই নারীকে এসব বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন। তিনিই তাদের ঘরে অবস্থান করতে বলেছেন, কারণ সেটাই তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর। আর সাথে দিয়েছেন নারীদের জন্য অনেক অনেক রুখসাত।

একজন পুরুষের জন্য কখনোই কোন অবস্থাতে সালাত পরিত্যাগ করা বৈধ নয়। অথচ আল্লাহর বিধানে একজন নারীকে সালাতের বিধানে ছাড় দেয়া হয়েছে, যখন সে ঋতুবতী হয়। যারা নারী ও পুরুষকে সমান প্রমাণ করতে চায়। এবং পুরুষের সমান কর্মদক্ষতা দিয়ে নারীকে মূল্যায়ন করতে চায় সেই নারীবাদী সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের জীবনের এই প্রাকৃতিক অবস্থার ব্যাপারে কি কোন ছাড় আছে! না নেই। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন নারীর জন্য সেই সময়গুলোতেও একই পরিমাণ কাজের চাপ অব্যাহত রাখা একটা জুলুম।

তারপর যদি মাতৃত্বকালীন সময়ের কথা বলি, প্রেগ্ন্যান্সি পিরিয়ডে একজন নয় মাসের গর্ভবতী মাকে ডেলিভারির আগের দিন পর্যন্ত অসুস্থ শরীরটাকে নিয়ে ফুল টাইম অফিস করতে হয়। অথচ তখন সামান্য বিশ্রাম নিতেও তার মন কাঁদে, শরীর ভেঙে পড়ে। এটা কী নারীর প্রতি জুলুম নয়! এই অবস্থায় একজন নারী যে কতোটা অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে তা জানে কেবল সে ও তার রব। কেউ কেউ হয়ত বলবে, চাইলে তো কিছুদিন আগেও মাতৃত্বকালীন ছুটি নেয়া যায়। হ্যা যায়, কিন্তু আমি দেখেছি, অনেক মা নবজাতকের সাথে আরও একটি দিন কাটানোর আশায় ডেলিভারির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অফিসে থাকেন—নিজের শরীরের সব কষ্ট যন্ত্রণা সয়ে।

সন্তান জন্ম হওয়ার পর যখন চার কিংবা ছয়মাস বাদে মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হয়ে যায়, কলিজার টুকরাকে রেখে অফিসে যেতে মায়ের অন্তরের উপর যে কী মানসিক চাপ পড়ে, তা বুক ছিঁড়ে কি দেখানো যায় এই নারীবাদী সমাজকে! একটা ব্রেস্টফিডিং বাচ্চাকে দুই বছর ফিডিং করানো হয়। অথচ একজন মা ছুটি পায় কিছু মাস। বাচ্চাদের ফিডিং-এর জন্য নির্দিষ্ট কোন টাইম নির্ধারিত নেই। যখন-তখন তার মাকে প্রয়োজন হয়। আবার যেই মা বাচ্চাকে ফিডিং করায়, তার জন্য অফিস টাইমের দীর্ঘ সময় দূরে থাকা কেবল মানসিক কষ্ট নয়, ভীষণ শারীরিক কষ্টের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। আচ্ছা, নারীর এই কঠিন সময়ের ব্যাপারে পুঁজিবাদী সমাজ কী বলে!

এসব বিশেষ অবস্থা বাদই দিলাম। একেবারে সাধারণ সময় রোজ রোজ পুরুষদের ঠেলা ধাক্কা খেয়ে অফিসে যাওয়া ও একই যুদ্ধ করে অফিস থেকে ফেরা—কোন মেয়ের জন্যই স্বাচ্ছন্দের নয়। কোন কোন পুরুষের এতে মজা লাগতে পারে, কিন্তু যে নারীর ফিতরাত একেবারে বিকৃত হয়নি, এমন কারোরই এগুলো ভালো লাগে না। বরং প্রচণ্ড বিরক্ত লাগে।

সারাদিনের অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরে যখন ঘরে ফেরে স্বাভাবিকভাবেই একজন পুরুষের শরীরে যতটুকু শক্তি অবশিষ্ট থাকে, একজন নারীর ক্ষেত্রে তা থাকে না। কিন্তু তারপরও ঘরের কাজ, সংসারের দায়িত্ব, সন্তানের যত্ন—সবই তার কাঁধে, তখন প্রশ্ন জাগে—এ কি নারীর প্রতি অন্যায় নয়?

ভেবে দেখুন তো, পুঁজিবাদী জীবন ব্যবস্থার নারীদের পুরুষসূলভ জীবনযাত্রা ভালো, নাকি আল্লাহ তায়ালা নারীর স্বভাব-চরিত্র, মন-মানসিকতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে যে জীবনবিধান দিয়েছেন; যেভাবে নবী কন্যা, নবীর স্ত্রীগণ ও মুমিন নারীরা তাদের জীবন কাটিয়েছেন–সেটা ভালো। আর যে নিরুপায় হয়, তার কথা তো ভিন্নই।

আরো পড়ুন