
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
আজকের দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর শোকের দিন। মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনার বিভীষিকায় শত শত শিশু আহত হয়েছে, আর অনেক নিষ্পাপ প্রাণ আল্লাহর সান্নিধ্যে পাড়ি জমিয়েছে। যারা সকালবেলা মায়ের দোয়া নিয়ে, কলম আর খাতা হাতে জ্ঞানের পথে পা বাড়িয়েছিল—হয়তো কেউই কল্পনাও করেনি, এটাই হবে তাদের জীবনের শেষ দিন…
আগুনের দহন যে কতটা পীড়াদায়ক, তা অনুভব কেবল সে-ই করে, যাকে আল্লাহ তা’আলা এই পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। হয়তো এ কারণেই আগুনের শাস্তি জাহান্নামের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।অগ্নিদগ্ধ ফুলের মতো এই বাচ্চাগুলোর কষ্ট যেন চোখে দেখা যায় না—মন বিক্ষত, বুক ভার।
আর একদিকে, ক্ষুধার্ত, কঙ্কালসার গাজার শিশুদের মৃত্যুর খবর প্রতিদিন আমাদের হৃদয়কে ভেঙে দিচ্ছে।আমরা যেন এক নিঃশ্বাসে দগ্ধ হচ্ছি—আত্মদহন, অনুতাপ আর অসহায়ত্বের আগুনে।
আমরা নিহত শিশুদের শহীদ হিসেবে কবুল হওয়ার দোয়া করি। তাদের মা-বাবাকে আপনি, হে আল্লাহ, সেই ধৈর্য দান করুন, যেমন আপনি দিয়েছিলেন হযরত আয়ূব (আ.)-কে। আর আমরা দোয়া করি গাজার মৃতপ্রায় শিশু, বৃদ্ধ, মা-বোন ও ভাইদের জন্য—হে আল্লাহ, তাদের জন্য আপনার রিজিকের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করুন। তাদের কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি দিন। আহত শিশুদের যন্ত্রণাও আপনি হালকা করে দিন, হে শিফা দানকারী রব। তাদের দ্রুত আরোগ্য দান করুন।
আমরা আশা করি, এই ঘটনার পেছনে যেসব গাফিলতি ছিল, সেগুলোর প্রতি সরকার ও দায়িত্বশীল মহল যেন সচেতন হয়।
রাষ্ট্র যেন দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মৃত্যু কতটা অপ্রত্যাশিত! জীবন কতটা ক্ষণিক! আখিরাতের জীবনই আসল জীবন।




